রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি: বান্দরবানের রোয়াংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল মান্নাকে মানবতার ওসি বললেন প্রসূতিনারী প্রীতি খিয়াং ও সংশ্লিষ্ট সাধারণ মানুষ। কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) সন্ত্রাসীদের ভয়ে খামতাং পাড়ার খিয়াং সম্প্রদায়রা পালিয়ে এসে রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান করেন। গত মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) রাতে আশ্রয় কেন্দ্রের ডিউটিরত পুলিশকে দেখতে পরিদর্শনকালে হঠাৎ এক প্রসূতি নারী প্রসব বেদনা উঠছে খবর শুনে এগিয়ে আসেন রোয়াংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল মান্নান। এতে নিজ গাড়ি দিয়ে প্রসূতি মা প্রীতি খিয়াং (২৬) কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দিকে ভর্তি করে দেন। সূত্রে জানা গেছে খামতাং পাড়া বাসিন্দা সাহ্লাউ খিয়াং এর স্ত্রী। হাসপাতালে পৌঁছে ফুটতে ফুটতে এক কন্যা শিশু প্রসব করছে। মা ও মেয়ে দুজনই সুস্থ্য আছে। প্রসূতি মায়ের পিতা উমং খিয়াং (৫২) বলেন গত ৬এপ্রিল বৃহস্পতিবা রাতে দুই গ্রুপে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা খামতাং পাড়া এলাকায় গুলাগুলি ঘটনা ঘটে। এলাকার দুই সশস্ত্র সন্ত্রাসীর গ্রুপে গুলাগুলিতে ৮জন নিহত হয়। এ ঘটনা দেখে ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে এসে রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অবস্থান করছি। সেখানে আমার মেয়ে প্রীতি খিয়াং (২৬) গর্ভবতী অবস্থায় এসে প্রসব বেদনা খবর শুনে রোয়াংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল মান্নান এগিয়ে এসে নিজ গাড়িতে করে রোয়াংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে দিয়েছেন। তিনি একজন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছেন। তাই আমরা তাকে কৃতজ্ঞত প্রকাশ করছি। রোয়াংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল মান্নান বলেন খামতাং পাড়া থেকে আশ্রিত এক নারী অসুস্থতার খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে দেখা যায় প্রসব বেদনা কাতরাছে। রাতে কোন গাড়ি না থাকায় প্রসূতি মাকে আমার নিজ গাড়িতে করে রোয়াংছড়ি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পৌঁছ দিয়েছি।
রোয়াংছড়ি হাসপাতালে কর্মরত মিডওয়াইফ আছমাউল হুছনা ও এসএসএন লাল মুনসিয়াম বম বলেন মা ও মেয়ে দুই জনে সুস্থ আছেন।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি